জাতীয় পরিচয়পত্র (National ID Card বা NID) বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পাসপোর্ট তৈরি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বর (TIN), মোবাইল সিম নিবন্ধন, সরকারি সেবা গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সঠিক এনআইডি তথ্য প্রয়োজন হয়। তাই এনআইডিতে কোনো ভুল তথ্য থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের NID Services পোর্টালের মাধ্যমে অনেক ধরনের এনআইডি তথ্য অনলাইনে সংশোধনের জন্য আবেদন করা যায়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র জমা দিতে, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে এবং অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা বা নির্বাচন অফিসে উপস্থিতির প্রয়োজন হতে পারে।
ভোটার নিবন্ধনের সময় তথ্যের ভুল, ডেটা এন্ট্রির ত্রুটি, জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষাগত সনদের সঙ্গে অমিল, পারিবারিক তথ্য পরিবর্তন কিংবা বৈধ কারণে তথ্য হালনাগাদের প্রয়োজন হলে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যায়। সবচেয়ে বেশি সংশোধন করা হয় নিজের নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম এবং বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কিত তথ্য। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করলে অনলাইনে সহজেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: এই নির্দেশিকাটি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (NID Wing) বিদ্যমান নিয়ম, সরকারি নির্দেশনা এবং বাস্তব আবেদন প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। নীতিমালা পরিবর্তিত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য হালনাগাদ করা হবে।
এনআইডিতে কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যায়?
এনআইডির প্রতিটি তথ্য সংশোধনের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। নিচে বিভিন্ন ধরনের সংশোধনের বিস্তারিত গাইড দেওয়া হলো—
নাম সংশোধন (বাংলা ও ইংরেজি)
এনআইডিতে নিজের নামের বানান ভুল, বাংলা ও ইংরেজি নামের অমিল বা সম্পূর্ণ নাম সংশোধনের জন্য আবেদন করা যায়। নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্ট বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। বিস্তারিত নিয়ম জানতে দেখুন: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নিজের নাম সংশোধন।
নিজের নামের পাশাপাশি পিতা বা মাতার নামও সংশোধনের প্রয়োজন হলে দেখুন: এনআইডিতে নিজ নামসহ পিতা/মাতা/পিতা-মাতার নাম সংশোধন।
স্বাক্ষর পরিবর্তন বা সংশোধন
স্বাক্ষর পরিবর্তন, ভুল স্বাক্ষর সংশোধন বা নতুন স্বাক্ষর যুক্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে দেখুন: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) স্বাক্ষর পরিবর্তন বা সংশোধনের নিয়ম।
ছবি বা বায়োমেট্রিক তথ্যও হালনাগাদ করতে চাইলে দেখুন: এনআইডিতে ছবি ও বায়োমেট্রিক হালনাগাদ।
পিতা-মাতার নাম সংশোধন
এনআইডিতে পিতা, মাতা বা উভয়ের নাম ভুল থাকলে তা সংশোধনের আবেদন করা যায়। পারিবারিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ বা অন্যান্য প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন: জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতা/মাতা/পিতা-মাতার নাম সংশোধন।
নিজের নামের পাশাপাশি পিতা বা মাতার নাম একসঙ্গে সংশোধনের প্রয়োজন হলে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেখুন: এনআইডিতে নিজ নামসহ পিতা/মাতা/পিতা-মাতার নাম সংশোধন।
শুধুমাত্র নিজের নাম সংশোধনের জন্য দেখুন: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নিজের নাম সংশোধন।
জন্ম তারিখ সংশোধন
জন্ম তারিখ এনআইডির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জন্ম নিবন্ধন, এসএসসি সনদ বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য নথির ভিত্তিতে জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন করা যায়। বিস্তারিত প্রক্রিয়া জানতে দেখুন: এনআইডিতে জন্ম তারিখ ও অন্যান্য তথ্য সংশোধন।
জন্মস্থানেও ভুল থাকলে দেখুন: এনআইডিতে জন্মস্থান পরিবর্তন।
বৈবাহিক অবস্থা ও স্বামী/স্ত্রীর তথ্য সংশোধন
বিবাহ, তালাক, স্বামী বা স্ত্রীর নাম সংযোজন কিংবা বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এনআইডি তথ্য হালনাগাদ করা যায়। বিস্তারিত নিয়ম জানতে দেখুন: এনআইডিতে বৈবাহিক অবস্থা ও স্বামী/স্ত্রীর নাম সংশোধন।
স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি নম্বর বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর যুক্ত করতে চাইলে দেখুন: পারিবারিক পরিচয় তথ্য সংযোজন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধন বা হালনাগাদ
শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য ভুল থাকলে বা নতুন যোগ্যতা যুক্ত করতে চাইলে এনআইডি তথ্য আপডেট করা যায়। বিস্তারিত জানতে দেখুন: এনআইডিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধন ও হালনাগাদ।
ধর্ম সংশোধন বা পরিবর্তন
এনআইডিতে ধর্মের তথ্য সংশোধন বা পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত নিয়ম ও প্রমাণপত্র অনুসরণ করতে হয়। বিস্তারিত নির্দেশনা দেখুন: এনআইডিতে ধর্ম সংশোধন/পরিবর্তন।
প্রতিবন্ধিতা বা অসামর্থতা তথ্য সংযোজন
প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত তথ্য এনআইডিতে যুক্ত বা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা যায়। বিস্তারিত জানতে দেখুন: এনআইডিতে অসামর্থতা/প্রতিবন্ধিতা তথ্য সংযোজন বা সংশোধন।
পেশা পরিবর্তন
বর্তমান পেশার তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধনের জন্য এনআইডি আপডেট করা যায়। আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সম্পর্কে জানতে দেখুন: জাতীয় পরিচয়পত্রে পেশা পরিবর্তন।
রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা সংশোধন
রক্তের গ্রুপ ভুল থাকলে বা নতুন করে যুক্ত করতে চাইলে মেডিকেল প্রমাণপত্রের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। বিস্তারিত জানতে দেখুন: এনআইডিতে রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা সংশোধন।
ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য হালনাগাদ
ছবি পরিবর্তন, বায়োমেট্রিক তথ্য আপডেট বা AFIS যাচাই সম্পর্কিত নিয়ম জানতে দেখুন: এনআইডিতে ছবি ও বায়োমেট্রিক হালনাগাদ।
স্বাক্ষরও পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে দেখুন: এনআইডি স্বাক্ষর পরিবর্তন বা সংশোধনের নিয়ম।
পারিবারিক পরিচয় তথ্য সংযোজন
পিতা, মাতা, স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি নম্বর এবং জন্ম নিবন্ধন নম্বর যুক্ত করার নিয়ম জানতে দেখুন: পিতা, মাতা, স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি নম্বর ও জন্ম নিবন্ধন নম্বর সংযোজন।
পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর সাল সংযোজন বা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম ও কাগজপত্র জানতে দেখুন: পিতা, মাতা, স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর সাল সংযোজন বা সংশোধন।
TIN, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যোগাযোগ তথ্য আপডেট
এনআইডিতে TIN নম্বর, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোবাইল ও টেলিফোন নম্বর হালনাগাদের নিয়ম জানতে দেখুন: TIN, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোবাইল ও টেলিফোন নম্বর হালনাগাদ।
প্রয়োজনে একই সঙ্গে পেশা পরিবর্তন অথবা বর্তমান ঠিকানা সংশোধন সম্পর্কিত নির্দেশিকাও অনুসরণ করতে পারেন।
জন্মস্থান পরিবর্তন
জন্মস্থান ভুল থাকলে বা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে নির্ধারিত প্রমাণপত্রসহ আবেদন করা যায়। বিস্তারিত জানতে দেখুন: এনআইডিতে জন্মস্থান পরিবর্তন।
জন্ম তারিখেও ভুল থাকলে দেখুন: এনআইডিতে জন্ম তারিখ সংশোধন।
বর্তমান ঠিকানা সংশোধন
বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন, ভোটার এলাকা সংশোধন বা ঠিকানা হালনাগাদের নিয়ম জানতে দেখুন: এনআইডিতে বর্তমান ঠিকানা সংশোধন।
স্থায়ী ঠিকানাও পরিবর্তন করতে হলে দেখুন: এনআইডিতে স্থায়ী ঠিকানা সংশোধন।
স্থায়ী ঠিকানা সংশোধন
স্থায়ী ঠিকানা সংশোধনের ক্ষেত্রে ক, খ, গ, ঘ ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যাচাই প্রক্রিয়া থাকতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন: এনআইডিতে স্থায়ী ঠিকানা সংশোধন।
শুধুমাত্র বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য দেখুন: এনআইডিতে বর্তমান ঠিকানা সংশোধন।
এনআইডি সংশোধনের জন্য সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন
তথ্যের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে সঠিক তথ্য নির্বাচন করা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং আপলোড করা নথি পরিষ্কার ও পাঠযোগ্য হওয়া নিশ্চিত করা উচিত। ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে আবেদন বাতিল হতে পারে বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত নিচের নথিগুলো প্রয়োজন হতে পারে—
- জন্ম নিবন্ধন সনদ (বিশেষ করে নাম, জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান সংশোধনের ক্ষেত্রে)
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (নাম, জন্ম তারিখ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের জন্য)
- পাসপোর্ট (নাম ও জন্ম তারিখ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে)
- নাগরিকত্ব সনদ
- বিবাহ বা তালাক সংক্রান্ত কাগজপত্র (বৈবাহিক অবস্থা সংশোধন এর জন্য)
- পিতা-মাতা বা স্বামী/স্ত্রীর পরিচয়পত্রের তথ্য (পারিবারিক পরিচয় তথ্য সংযোজন এর জন্য)
- সরকারি বা গ্রহণযোগ্য অন্যান্য প্রমাণপত্র
অনলাইনে এনআইডি (NID) কার্ড সংশোধনের আবেদন করার নিয়ম
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের NID Services পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে এনআইডি বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য আবেদন করা যায়। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে সহজেই আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।
ধাপ ১: NID Services পোর্টালে নিবন্ধন ও লগইন
প্রথমে নির্বাচন কমিশনের NID Services ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। আপনার NID নম্বর অথবা ফর্ম নম্বর এবং জন্ম তারিখ ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করুন। এরপর বর্তমান ঠিকানা নির্বাচন করে মোবাইল নম্বর যাচাই করুন এবং NID Wallet অ্যাপের মাধ্যমে মুখমণ্ডল (Face Verification) যাচাই সম্পন্ন করুন। যাচাই শেষ হলে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
ধাপ ২: সংশোধনযোগ্য তথ্য নির্বাচন
লগইন করার পর প্রোফাইল (Profile) মেনুতে প্রবেশ করুন এবং Edit অপশনে ক্লিক করুন। এরপর যে তথ্যটি সংশোধন করতে চান সেটি নির্বাচন করে সঠিক তথ্য প্রদান করুন।
প্রতিটি তথ্যের জন্য আলাদা নির্দেশিকা রয়েছে। যেমন—
- নিজের নাম সংশোধন
- জন্ম তারিখ সংশোধন
- পিতা-মাতার নাম সংশোধন
- বর্তমান ঠিকানা সংশোধন
- স্থায়ী ঠিকানা সংশোধন
ধাপ ৩: সংশোধন ফি পরিশোধ
তথ্য সম্পাদনা সম্পন্ন হলে সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে। এরপর বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত অন্যান্য পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইনে ফি পরিশোধ করুন।
ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র আপলোড
সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। যেমন—
- জন্ম নিবন্ধন সনদ
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
- পাসপোর্ট
- নাগরিকত্ব সনদ
- বিবাহ বা তালাকের কাগজপত্র
- অন্যান্য গ্রহণযোগ্য সরকারি প্রমাণপত্র
আপলোড করা সকল নথি পরিষ্কার, সম্পূর্ণ এবং পাঠযোগ্য হওয়া উচিত। ভুল বা অস্পষ্ট কাগজপত্র আপলোড করলে আবেদন বাতিল হতে পারে অথবা অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
ধাপ ৫: আবেদন সাবমিট করুন
সব তথ্য ও প্রমাণপত্র যাচাই করে Submit বাটনে ক্লিক করুন। আবেদন সফলভাবে জমা হলে একটি আবেদন নম্বর (Application ID) সংরক্ষণ করে রাখুন, যা ভবিষ্যতে আবেদন ট্র্যাক করতে কাজে লাগবে।
ধাপ ৬: আবেদন অনুমোদনের পর সংশোধিত এনআইডি ডাউনলোড
নির্বাচন কমিশন আবেদন যাচাই করে অনুমোদন দিলে আপনার NID Services অ্যাকাউন্টের Download অপশন থেকে সংশোধিত এনআইডির অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী স্মার্ট এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।
এনআইডি সংশোধন হতে কত দিন সময় লাগে?
অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের আবেদন অনুমোদনের সময় নির্ভর করে সংশোধনের ধরন, জমা দেওয়া প্রমাণপত্র এবং নির্বাচন কমিশনের যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর। সাধারণভাবে বৈধ ও সম্পূর্ণ কাগজপত্র জমা দিলে ১৫ থেকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি হতে পারে।
তবে জটিল তথ্য সংশোধন, অতিরিক্ত যাচাই, নির্বাচনকালীন কার্যক্রম অথবা সার্ভারের অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর নিয়মিত NID Services অ্যাকাউন্টে লগইন করে আবেদনটির সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
ভোটার আইডি (NID) কার্ড সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধনের আবেদন করার আগে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হয়। আপনি কত টাকা পরিশোধ করবেন, তা নির্ভর করে কোন ধরনের তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করছেন তার ওপর।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এনআইডি সংশোধনের আবেদনকে সাধারণত তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করেছে—
- ব্যক্তিগত তথ্য: নিজের নাম, পিতা/মাতার নাম, জন্ম তারিখ ইত্যাদি।
- অন্যান্য তথ্য: পেশা, ধর্ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রক্তের গ্রুপ, প্রতিবন্ধিতা সংক্রান্ত তথ্য ইত্যাদি।
- ঠিকানা পরিবর্তন: বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা সংশোধন।
ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের বিস্তারিত জানতে দেখুন নিজের নাম সংশোধন, পিতা-মাতার নাম সংশোধন এবং জন্ম তারিখ সংশোধন নির্দেশিকা। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতা, ধর্ম, পেশা, রক্তের গ্রুপ, বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা সংশোধনের জন্য আলাদা নির্দেশিকাও রয়েছে।
এনআইডি সংশোধনের সরকারি ফি (২০২৬)
বর্তমান সরকারি ফি (১৫% ভ্যাটসহ) নিচে দেওয়া হলো—
| সংশোধনের ধরণ | সরকারি ফি (১৫% ভ্যাটসহ) |
|---|---|
| ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন (নাম, পিতা/মাতার নাম, জন্ম তারিখ) | ২৩০ টাকা |
| অন্যান্য তথ্য সংশোধন (পেশা, ধর্ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রক্তের গ্রুপ ইত্যাদি) | ১১৫ টাকা |
| ব্যক্তিগত ও অন্যান্য তথ্য একসঙ্গে সংশোধন | ৩৪৫ টাকা |
| হারানো বা নষ্ট হওয়া এনআইডি রিইস্যু (সাধারণ) | ২৩০ টাকা |
| হারানো বা নষ্ট হওয়া এনআইডি রিইস্যু (জরুরি) | ৩৪৫ টাকা |
দ্রষ্টব্য: উপরের ফি প্রথমবার সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একই তথ্য দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার সংশোধনের জন্য আবেদন করলে সরকারি বিধি অনুযায়ী ফি বৃদ্ধি পেতে পারে।
এনআইডি সংশোধনের ফি কীভাবে জমা দেবেন?
বর্তমানে এনআইডি সংশোধনের সরকারি ফি ঘরে বসেই পরিশোধ করা যায়। বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad) এবং রকেট (Rocket)-এর মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে খুব সহজেই ফি জমা দেওয়া সম্ভব।
পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার NID Services অ্যাকাউন্টে ফি আপডেট হয়ে যায় এবং এরপর আপনি অনলাইনে সংশোধনের আবেদন জমা দিতে পারবেন। তবে সার্ভারের ব্যস্ততা বা কারিগরি কারণে কিছু ক্ষেত্রে ফি আপডেট হতে সামান্য সময় বেশি লাগতে পারে।
ভোটার আইডি (NID) কার্ড সংশোধন করার নিয়ম (A to Z)
অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের NID Services পোর্টালে একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। যদি আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে এনআইডি নম্বর (অথবা ফর্ম নম্বর), জন্ম তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করতে হবে।
অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর NID Wallet অ্যাপের মাধ্যমে মুখমণ্ডল (Face Verification) যাচাই করে অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এরপর ড্যাশবোর্ডের "প্রোফাইল (Profile)" অপশনে গিয়ে "এডিট (Edit)" নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন, প্রমাণপত্র আপলোড, সরকারি ফি পরিশোধ এবং আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
যারা প্রথমবার অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করছেন, তাদের সুবিধার জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি নিচে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে।
ধাপ ১: NID Services অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন
এনআইডি সংশোধনের প্রথম ধাপ হলো NID Services পোর্টালে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করা।
এজন্য নির্বাচন কমিশনের NID Services ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (NID Number) অথবা নতুন ভোটার নিবন্ধনের ফর্ম নম্বর, জন্ম তারিখ এবং প্রদর্শিত নিরাপত্তা কোড (Captcha) সঠিকভাবে পূরণ করুন।
এরপর আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করুন এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর যাচাই (OTP Verification) সম্পন্ন করুন। সবশেষে স্মার্টফোনে NID Wallet অ্যাপ ব্যবহার করে Face Verification সম্পন্ন করলে আপনার অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন শেষ হবে।
দ্রষ্টব্য: আগে থেকেই যদি NID Services অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে নতুন করে নিবন্ধন করার প্রয়োজন নেই। সরাসরি লগইন করে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন।
ভোটার আইডি তথ্য প্রদান
অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের সময় একটি সংক্ষিপ্ত তথ্য ফরম পূরণ করতে হবে। এখানে যার এনআইডি সংশোধন করতে চান, তার এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ সঠিকভাবে লিখতে হবে।
যদি আপনার হাতে এনআইডি কার্ড না থাকে অথবা আপনি নতুন ভোটার হয়ে এখনও স্মার্ট এনআইডি না পেয়ে থাকেন, তাহলে নিবন্ধনের সময় প্রাপ্ত ফর্ম নম্বর (Form Number) ব্যবহার করেও একইভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যাবে।
পরবর্তী ধাপে আপনার মোবাইল নম্বর যাচাই এবং NID Wallet অ্যাপের মাধ্যমে Face Verification সম্পন্ন করতে হবে।
ধাপ ২: ঠিকানা যাচাই (Address Verification)
প্রাথমিক তথ্য প্রদান করার পরের ধাপ হলো ঠিকানা যাচাই (Address Verification)। অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজে সংরক্ষিত ঠিকানার সঙ্গে আপনার দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়।
এখানে আপনার ভোটার নিবন্ধনের সময় যে বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা প্রদান করা হয়েছিল, সেই অনুযায়ী বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা নির্বাচন করতে হবে। প্রতিটি তথ্য অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের রেকর্ডে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ: যদি বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানার তথ্য ভুল নির্বাচন করেন, তাহলে পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হবে না এবং আপনি পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন না।
ধাপ ৩: মোবাইল নম্বর যাচাই (OTP Verification)
ঠিকানা যাচাই সফলভাবে সম্পন্ন হলে আপনার এনআইডি অ্যাকাউন্টে সংযুক্ত মোবাইল নম্বরের কিছু অংশ স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে।
- যদি নম্বরটি সচল থাকে, তাহলে "বার্তা পাঠান" বাটনে ক্লিক করে OTP গ্রহণ করুন।
- যদি পুরোনো নম্বরটি ব্যবহার না করে থাকেন, তাহলে নতুন একটি সচল মোবাইল নম্বর যুক্ত করে সেটিতে যাচাইকরণ কোড (OTP) গ্রহণ করতে পারবেন।
এরপর মোবাইলে প্রাপ্ত ৬ সংখ্যার OTP নির্ধারিত ঘরে লিখে "বহাল" বাটনে ক্লিক করুন। যাচাইকরণ সফল হলে আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে Face Verification ধাপে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে NID Wallet অ্যাপের মাধ্যমে মুখমণ্ডল যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।
ধাপ ৪: ফেস ভেরিফিকেশন (Face Verification)
মোবাইল নম্বর যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের শেষ ধাপ হলো Face Verification। এই ধাপে স্মার্টফোনে NID Wallet অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
প্রথমে NID Wallet অ্যাপটি চালু করে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত QR Code স্ক্যান করুন। এরপর অ্যাপের নির্দেশনা অনুসরণ করে যার এনআইডি কার্ড, তাকে ক্যামেরার সামনে মুখ রেখে কয়েক সেকেন্ড ডানে-বামে মাথা ঘোরাতে এবং প্রয়োজনে চোখের পলক ফেলতে হবে।
Face Verification সফলভাবে সম্পন্ন হলে আপনার পরিচয় নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হবে এবং আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে NID Services অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করানো হবে।
দ্রষ্টব্য: নিরাপত্তার স্বার্থে Face Verification অবশ্যই এনআইডির প্রকৃত মালিককেই সম্পন্ন করতে হবে। অন্য কারও মুখ ব্যবহার করে যাচাই করা সম্ভব নয়।
ধাপ ৫: পাসওয়ার্ড সেট করুন
Face Verification শেষ হলে একটি নতুন পাসওয়ার্ড সেট করার অপশন প্রদর্শিত হবে।
আপনি চাইলে "এড়িয়ে যান (Skip)" নির্বাচন করতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে সহজে লগইন করার সুবিধার জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করে রাখা ভালো। এতে পরবর্তীবার লগইন করার সময় বারবার Face Verification করার প্রয়োজন হবে না; শুধুমাত্র এনআইডি নম্বর এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাবে।
ধাপ ৬: এনআইডি তথ্য সংশোধন শুরু করুন
অ্যাকাউন্টে সফলভাবে লগইন করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে "প্রোফাইল (Profile)" মেনুতে প্রবেশ করুন। এরপর "এডিট (Edit)" বাটনে ক্লিক করলে আপনার এনআইডিতে থাকা তথ্যগুলো সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্রে তথ্য সংশোধনের আবেদন সাধারণত নিচের তিনটি প্রধান বিভাগে বিভক্ত—
- ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)
- ঠিকানা (Address Information)
- অন্যান্য তথ্য (Other Information)
প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগ নির্বাচন করে তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। প্রতিটি তথ্যের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ভিন্ন হতে পারে। বিস্তারিত নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হয়েছে।
- নিজের নাম সংশোধন
- পিতা-মাতার নাম সংশোধন
- জন্ম তারিখ সংশোধন
- বর্তমান ঠিকানা সংশোধন
- স্থায়ী ঠিকানা সংশোধন
- অন্যান্য তথ্য সংশোধন
ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information) সংশোধন
ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information) বিভাগ থেকে এনআইডির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সংশোধনের আবেদন করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে—
- নিজের নাম (বাংলা ও ইংরেজি) — নাম সংশোধনের নিয়ম
- জন্ম তারিখ — জন্ম তারিখ সংশোধনের নিয়ম
- জন্মস্থান — জন্মস্থান পরিবর্তনের নিয়ম
- জন্ম নিবন্ধন নম্বর
- লিঙ্গ (Gender)
- পিতা ও মাতার নাম (বাংলা) — পিতা-মাতার নাম সংশোধনের নিয়ম
- পিতা ও মাতার এনআইডি নম্বর
- নিজের নামের পাশাপাশি অভিভাবকের নাম একসঙ্গে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে — নিজ নামসহ পিতা/মাতার নাম সংশোধন
প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধনের জন্য "ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)" ট্যাবে গিয়ে "এডিট (Edit)" বাটনে ক্লিক করুন। এরপর যে তথ্যটি পরিবর্তন করতে চান, তার পাশের চেকবক্স নির্বাচন করুন এবং প্রমাণপত্র অনুযায়ী সঠিক তথ্য লিখুন।
সব তথ্য পূরণ করার পর "পরবর্তী (Next)" বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যান।
ধাপ ৭: সংশোধিত তথ্য পুনঃযাচাই
এই ধাপে আপনি আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশোধিত তথ্যের একটি Preview দেখতে পারবেন।
এখানে আপনার এনআইডিতে পূর্বে থাকা তথ্য এবং নতুন দেওয়া তথ্য পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে। প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিশ্চিত করুন যে কোনো বানান, তারিখ বা অন্যান্য তথ্য ভুল নেই।
পরামর্শ: আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে তথ্য পরিবর্তন করা যায় না। তাই "পরবর্তী" বাটনে ক্লিক করার আগে সব তথ্য ও প্রমাণপত্র একাধিকবার যাচাই করে নেওয়া উচিত।
সবকিছু সঠিক থাকলে "পরবর্তী (Next)" বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৮: এনআইডি সংশোধনের সরকারি ফি পরিশোধ
তথ্য যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সরকারি সংশোধন ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি-এর পরিমাণ নির্ভর করবে আপনি কোন ধরনের তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করছেন তার ওপর।
সংশোধন ফি-এর বিস্তারিত তালিকা জানতে দেখুন: ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?
বর্তমানে বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad) এবং রকেট (Rocket)-এর মাধ্যমে খুব সহজেই অনলাইনে এই ফি পরিশোধ করা যায়।
নিচে উদাহরণ হিসেবে বিকাশের মাধ্যমে এনআইডি সংশোধনের ফি পরিশোধের ধাপগুলো দেখানো হয়েছে।
বিকাশে এনআইডি (NID) সংশোধন ফি পরিশোধের নিয়ম
বিকাশ (bKash) অ্যাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধনের সরকারি ফি খুব সহজেই পরিশোধ করা যায়।
প্রথমে বিকাশ অ্যাপে লগইন করুন। এরপর "পে বিল (Pay Bill)" মেনুতে গিয়ে "সরকারি ফি (Government Fee)" ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন এবং সেখান থেকে "NID Service" নির্বাচন করুন।
এরপর আপনার আবেদনের ধরন (Correction/Reissue) নির্বাচন করে এনআইডি নম্বর লিখুন। বিকাশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার আবেদন অনুযায়ী প্রযোজ্য সরকারি ফি প্রদর্শন করবে।
তথ্য সঠিক থাকলে বিকাশের PIN দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন। পেমেন্ট সফল হওয়ার পর সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার NID Services অ্যাকাউন্টে ফি আপডেট হয়ে যাবে এবং আপনি পরবর্তী ধাপে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।
দ্রষ্টব্য: একই সরকারি ফি নগদ (Nagad) এবং রকেট (Rocket)-এর মাধ্যমেও পরিশোধ করা যায়।
ধাপ ৯: প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র (Documents) আপলোড
সংশোধনের আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। কোন তথ্য সংশোধন করছেন তার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ভিন্ন হতে পারে।
সাধারণভাবে নিচের নথিগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়—
- নাম সংশোধন – জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স।
- জন্ম তারিখ সংশোধন – জন্ম নিবন্ধন, এসএসসি/সমমানের সনদ, পাসপোর্ট।
- পিতা-মাতার নাম সংশোধন – পিতা-মাতার এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন এবং প্রয়োজনে ভাই-বোনের এনআইডি।
- বর্তমান ঠিকানা সংশোধন – বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা অন্যান্য ইউটিলিটি বিল।
- স্থায়ী ঠিকানা সংশোধন – নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঠিকানার প্রমাণপত্র।
- বৈবাহিক অবস্থা সংশোধন – বিবাহ নিবন্ধন, তালাকনামা বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র।
সব ডকুমেন্ট অবশ্যই পরিষ্কার, সম্পূর্ণ এবং সহজে পড়া যায় এমন স্ক্যান কপি বা ছবি হতে হবে। অস্পষ্ট বা অসম্পূর্ণ কাগজপত্র আপলোড করলে আবেদন যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে অথবা অতিরিক্ত ডকুমেন্ট জমা দিতে বলা হতে পারে।
সব প্রমাণপত্র আপলোড করার পর আবেদনটি Submit করুন।
পরামর্শ: আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশোধনের আবেদনপত্র (Application Summary) PDF আকারে ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করে রাখুন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এটি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ধাপ ১০: সংশোধিত এনআইডি কার্ড ডাউনলোড
আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আপনার দেওয়া তথ্য ও আপলোড করা ডকুমেন্ট যাচাই করবে। সবকিছু সঠিক থাকলে আবেদন অনুমোদিত (Approved) হবে।
সাধারণত আবেদন ২–৪ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। তবে আবেদন সংখ্যা বেশি থাকলে বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে ৩০–৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
আবেদন অনুমোদনের পর আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি SMS পাঠানো হতে পারে। এরপর NID Services অ্যাকাউন্টে লগইন করে সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।
ডাউনলোড করা কপিটি প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে স্মার্ট এনআইডি কার্ড বা অন্যান্য সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা বা ভোটার এলাকা পরিবর্তনের নিয়ম
জাতীয় পরিচয়পত্রে বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা সংশোধন এবং ভোটার এলাকা (Voter Area) পরিবর্তন—এই দুটি বিষয় এক নয়।
- শুধুমাত্র বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করতে চাইলে দেখুন বর্তমান ঠিকানা সংশোধনের নিয়ম।
- স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য দেখুন স্থায়ী ঠিকানা সংশোধনের নিয়ম।
- কিন্তু ভোটার এলাকা (Voter Area) পরিবর্তন করতে হলে আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ১৩ নম্বর ফরম (Voter Area Migration Form / Form-13) পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হয়।
আবেদনের সময় কেন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চান, বর্তমান ঠিকানায় কতদিন ধরে বসবাস করছেন এবং নতুন এলাকায় স্থানান্তরের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের কারণ অনুযায়ী নির্বাচন অফিস অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাইতে পারে। যেমন—
- চাকরির বদলির ক্ষেত্রে বদলির আদেশ (Job Posting/Transfer Letter)।
- নতুন বাসস্থানে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা অন্যান্য ইউটিলিটি বিল।
- প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়ার চুক্তিপত্র, নাগরিক সনদ বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য ঠিকানার প্রমাণপত্র।
দ্রষ্টব্য: বর্তমানে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যায় না। আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হয়।
এনআইডিতে জন্ম তারিখ সংশোধনের নিয়ম
এনআইডিতে জন্ম তারিখ ভুল থাকলে NID Services অ্যাকাউন্টে লগইন করে "ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)" বিভাগ থেকে "এডিট (Edit)" নির্বাচন করুন।
এরপর জন্ম তারিখ নির্বাচন করে সঠিক তারিখ লিখুন এবং সরকারি ফি পরিশোধের পর আবেদন জমা দিন।
জন্ম তারিখ সংশোধনের বিস্তারিত নির্দেশিকা দেখুন:
👉 এনআইডিতে জন্ম তারিখ সংশোধনের নিয়ম
সাধারণত নিচের ডকুমেন্টগুলো জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য গ্রহণযোগ্য—
- এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ
- এইচএসসি বা জেএসসি সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
- ই-পাসপোর্ট
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
গুরুত্বপূর্ণ: আবেদনপত্রে যে তথ্য দেবেন, আপলোড করা প্রতিটি প্রমাণপত্রেও একই তথ্য থাকতে হবে। আবেদন এবং প্রমাণপত্রের তথ্যের মধ্যে অমিল থাকলে আবেদন বাতিল বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হতে পারে।
এই একই নিয়ম নিজের নাম সংশোধন, পিতা-মাতার নাম সংশোধন এবং অন্যান্য তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে কত দিন লাগে?
এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি হতে কত সময় লাগবে, তা আবেদনটির ধরন, সংশোধনের জটিলতা এবং নির্বাচন কমিশনের যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
সাধারণভাবে—
- সাধারণ সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রায় ১৪–২১ দিন সময় লাগতে পারে।
- অধিক যাচাই প্রয়োজন হলে ৩০–৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
- জটিল আবেদন বা অতিরিক্ত তদন্তের ক্ষেত্রে ৬০ দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
সংশোধনের ধরন অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ
| ক্যাটাগরি | সংশোধনের ধরন | দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ |
|---|---|---|
| ক / ক-১ | সাধারণ বানান বা ছোটখাটো নাম সংশোধন | উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস |
| খ / খ-১ | জন্ম তারিখ বা বয়স সংশোধন (সীমিত পরিবর্তন) | জেলা নির্বাচন অফিস |
| গ / গ-১ | জন্ম তারিখে বড় ধরনের পরিবর্তন | আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস |
| ঘ | জটিল বা বড় ধরনের সংশোধন (যেমন সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন) | এনআইডি উইং, নির্বাচন কমিশন |
সাধারণ আবেদন উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকেই দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলেও, জটিল আবেদন একাধিক পর্যায়ে যাচাই হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বেশি সময় লাগে।
এছাড়া নির্বাচনকালীন সময়, অতিরিক্ত আবেদন, সার্ভারের চাপ অথবা প্রমাণপত্র পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে আবেদন নিষ্পত্তিতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধন সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
ভোটার আইডি কার্ড কতবার সংশোধন করা যায়?
জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে একই তথ্য দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার সংশোধন করতে চাইলে সরকারি ফি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং অতিরিক্ত প্রমাণপত্র বা যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
বাবা-মায়ের নাম ভুল থাকলে কীভাবে সংশোধন করবেন?
এনআইডিতে পিতা বা মাতার নাম ভুল থাকলে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রমাণপত্রসহ অনলাইনে আবেদন করা যায়। বিস্তারিত নির্দেশিকা দেখুন: পিতা-মাতার নাম সংশোধনের নিয়ম।
এনআইডি সংশোধন হতে কত দিন লাগে?
সাধারণত সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে আবেদন ১৪–২১ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়। তবে জটিল সংশোধন, অতিরিক্ত যাচাই বা সার্ভারের চাপ থাকলে ৩০–৪৫ দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
নাম সংশোধনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে?
নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্ট বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য সরকারি প্রমাণপত্র প্রয়োজন হয়। বিস্তারিত দেখুন: এনআইডিতে নিজের নাম সংশোধনের নিয়ম।
মোবাইল নম্বর কীভাবে পরিবর্তন করবেন?
এনআইডি অ্যাকাউন্টের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন বা নতুন নম্বর যুক্ত করার নিয়ম জানতে দেখুন: TIN, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোবাইল নম্বর হালনাগাদ।
স্মার্ট কার্ড সংশোধনের সরকারি ফি কত?
স্মার্ট এনআইডি কার্ড সংশোধনের ফি সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ব্যক্তিগত তথ্য, অন্যান্য তথ্য অথবা রিইস্যুর ক্ষেত্রে সরকারি ফি ভিন্ন হতে পারে। উপরের "ভোটার আইডি (NID) কার্ড সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?" অংশে সর্বশেষ ফি তালিকা দেওয়া হয়েছে।
জন্ম তারিখ বা বয়স কীভাবে সংশোধন করবেন?
জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্ট বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন করা যায়। বিস্তারিত দেখুন: এনআইডিতে জন্ম তারিখ সংশোধনের নিয়ম।
স্মার্ট এনআইডি কার্ড কীভাবে সংশোধন করবেন?
স্মার্ট এনআইডি কার্ডের তথ্য সংশোধনের জন্য আলাদা কোনো আবেদন করতে হয় না। NID Services পোর্টালে তথ্য সংশোধনের আবেদন অনুমোদিত হলে সংশোধিত তথ্য স্মার্ট কার্ডেও প্রযোজ্য হবে।
এনআইডিতে রক্তের গ্রুপ কীভাবে সংযোজন বা পরিবর্তন করবেন?
রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ অনলাইনে আবেদন করা যায়। বিস্তারিত দেখুন: এনআইডিতে রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা সংশোধনের নিয়ম।
অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন?
NID Services অ্যাকাউন্টে লগইন করলে আপনার আবেদন Pending, Under Review, Approved অথবা Rejected—কোন অবস্থায় রয়েছে তা ড্যাশবোর্ড থেকেই দেখতে পারবেন।
আবেদন Rejected হলে কী করবেন?
আবেদন বাতিল (Rejected) হলে প্রথমে বাতিলের কারণ দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য বা প্রমাণপত্র সংশোধন করুন। এরপর নতুন করে সংশোধনের আবেদন জমা দিন অথবা প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।
এসএসসি বা শিক্ষাগত সনদ ছাড়া এনআইডি সংশোধন করা যাবে কি?
হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব। শিক্ষাগত সনদ না থাকলে জন্ম নিবন্ধন, ই-পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা নির্বাচন কমিশন গ্রহণযোগ্য অন্যান্য সরকারি প্রমাণপত্রের ভিত্তিতেও সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে কোন তথ্য সংশোধন করছেন তার ওপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ভর করবে।
বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের পর স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য কীভাবে সংশোধন করবেন?
বিবাহ বিচ্ছেদ, পুনর্বিবাহ অথবা স্বামী/স্ত্রীর তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত নির্দেশিকা দেখুন: এনআইডিতে বৈবাহিক অবস্থা ও স্বামী/স্ত্রীর তথ্য সংশোধনের নিয়ম।
অনলাইনে সংশোধনের পর স্মার্ট এনআইডি কার্ড কীভাবে সংগ্রহ করবেন?
সংশোধনের আবেদন অনুমোদিত হলে প্রথমে অনলাইন থেকে সংশোধিত এনআইডির ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। পরবর্তীতে স্মার্ট এনআইডি কার্ড বিতরণ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইনে আবেদন করার পর নির্বাচন অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে কি?
সব ক্ষেত্রে নির্বাচন অফিসে যেতে হয় না। তবে আবেদন যাচাই, বায়োমেট্রিক আপডেট, অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা অথবা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা থাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হতে হতে পারে।
